ads

ছোটদের কাজী নজরুল ইসলাম


                                                ছোটদের নজরুল

ছোটদের জন্য তিনি এ প্রিয় কবিতাটি লিখেছেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি ....

১৮৯৯ সালে চব্বিশে মঙ্গলবার ভারতের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন । নজরুলের পিতার নাম ফকির আহমেদ মাতার নাম জাহেদা খাতুন । পরপর চার ছেলের পর নজরুলের জন্ম হয় । তাই মা অনেক কষ্ট পাওয়ার পর তার নাম রাখলেন দুখু মিয়া । ১৯০৮ সালে নজরুল তখন তার বয়স ৮ বছর সে সময় তার মা মারা যান । নজরুল খুব ভাল ছাত্র ছিলেন মক্তবে লেখাপড়া করতেন । সবার সেরা হাজার ১৯০৯ সালে তিনি প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন । এবার হাইস্কুলে ভর্তি হবেন কিন্তু সংসারের অভাব হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ নেই । কিন্তু হাই স্কুল ভর্তি হতে পারলেন না মক্তবে পড়াতে শুরু করলেন । মক্তবে পড়ার পাশাপাশি নজরুল মসজিদে আযান দিতেন । এতে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চালাতেন তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চলে না । তখন তিনি ভাবলেন যে আর টাকা রোজগার করা দরকার । নজরুল কবি গানের দলে দলে যোগ দিলেন তিনি দলের সাথে বিভিন্ন জায়গায় গান করতে যেতেন । আসরে দাঁড়িয়ে মুখে মুখে গান রচনা করতেন । দলের মালিক ছিলেন বাসুদেব । তিনি নজরুলকে খুব ভালোবাসতেন । লেটো দল থেকে ফিরে এসে হাই স্কুলে ভর্তি হলেন । কিন্তু স্কুলে পড়াশোনা তার মোটেই ভাল লাগত না । স্কুলে না গিয়ে তিনি কবিতা লিখতেন । কাজী বজলে করিম ছিলেন নজরুলের চাচা । তিনি নজরুলকে ফরাসি শেখাতেন । তিনি নজরুলকে পড়াতেন স্কুলে বাঁধাধরা নিয়ম তার ভাল লাগতো না । তাই তিনি একদিন স্কুল থেকে পালিয়ে গেলেন । আসানসোলের এর রুটিন মেনে নিলেন নজরুল দোকানে বসে নজরুল ।ময়দা মাখছেন আর গুনগুন করে গান গাইছেন ।কাজী রফিকুল ছিলেন আসানসোলের দারোগা । তিনি নজরুলের সাথে কথা বলে মুগ্ধ হলেন ।বুঝতে পারলেন ছেলেটি অনেক গুণ আছে । দারোগা সাহেব নজরুলকে নিজের গ্রামে ময়মনসিংহে নিয়ে এলেন । তাকে দরিয়াপুর হাই স্কুলে ভর্তি করে দিলেন । নজরুল কুপি জ্বালিয়ে অনেক রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন । সন্ধ্যায় বড় পিতলের কেরোসিন তেল ভরে দিতে হতো  । সকালে দেখা যেত একটুও তেল নেই । ময়মনসিংহে বিচুতিয়া মোড়লো  বাড়িতে থেকে নজরুল লেখাপড়া করতেন ।নজরুলকে নিয়ে ভাত খেতেন । একদিন তিনি ভুল করে নজরুলকে রেখে ভাত খেলেন । নজরুল কোষের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিলেন বুঝতে পারলেন যে তার ভুল হয়েছে । নজরুল সরলতা দেখে তিনি তার চোখে পানি এলো ।  তিনি নজরুলকে জড়িয়ে ধরলেন স্কুলে পরীক্ষা চলছে । প্রশ্ন ‘পক্তে ’বঙ্গাে শৎর ’ বিষয়ে একটি রচনা শিখতে বলা হয়েছে । নজরুল বিষয়টির উপর একটি কবিতা লিখতে চান । রচনা লিখতে তার ভালই লাগে না । এনিয়ে স্কুলে স্যারে  বকা দিলেন । নজরুল অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন । তারপর খাতাটি স্কুলে গার্ডেন  হাতে দিয়ে ইস্কুল থেকে বেরিয়ে এলেন । সেদিন ছিল দুপুর হাই স্কুলের শেষ দিন । ময়মনসিংহে একবছর তারপরে নজরুল নিজের গ্রামে চলে এলেন । এবার তিনি অন্য ধরনের হয়ে ফিরলেন ।১৯১৫ সালে নজরুল সিয়ারসোল গামে হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হলেন । তিনি বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হলেন স্কুলে পুরস্কার বিতরণ উৎসব । উৎসবে তিনি রবীন্দ্রনাথের ‘ পুরাতন ভূত্য ’দুই বিঘা জমি কবিতা আবৃত্তি করলেন ।  তার আবৃত্তি শুনে সবাই খুব প্রশংসা করলেন । নজরুলের বন্ধু শৈলজানন্দ । তিনি আসানসোল সরকারি হাই স্কুলে পড়তেন । ১৯১৭ সালের কথা তিনি সিয়ারসোল হাই স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়তেন । তখন সারা পৃথিবী জুড়ে যুদ্ধ চলছিল  ।এ যুদ্ধ নাম ছিল ‘মহাযুদ্ধ ’বন্ধুকে নিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নজরুল তৈরি হলেন । কিন্তু যুদ্ধ যেতে পারলেন না তার বন্ধু।নজরুল যুদ্ধে গেলেন ।যুদ্ধ থেকে এসে তিনি কবিতা লিখতেন  । নিজের লেখা কবিতা অন্যদের পড়াশুনা । ১৯২০ সাল নজরুল যুদ্ধ থেকে কলকাতা ফিরে এলেন । তিনি কবিতা রচনা করতে থাকলেন । ১৯২১ সালে তিনি বাংলা কবিতা সাহিত্যের অবাক করে দিলেন ।প্রক্তিকায় তার একটি কবিতা প্রকাশিত হল । কবিতাটির নাম ‘বিদ্রোহী’ । তখন  রবীন্দ্রনাথ খুব বড় কবি  ছিলেন ।  নজরুল খুব শ্রদ্ধা করতেন  রবীন্দ্রনাথকে । রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল কে খুব ভালোবাসতেন  । বিদ্রোহী কবিতাটি প্রকাশ হওয়ার পর নজরুল খুব খুশি  হলেন । তিনি ছুটে এলেন রবীন্দ্রনাথের কাছে । কবিতাটি পড়ে সারা দেশে মানুষ অবাক হয়ে গেলেন ।কবি জসীম উদ্দীন ।  পল্লী কবি হিসেবে পরিচিত তিনি প্রায়ই নজরুলের কাছে যেতেন  । কবিতা ও গান নিয়ে আলোচনা করতেন । ১৯২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে নজরুল ‘আনন্দময়ীর আগমন ‘ কবিতাটি প্রকাশিত হয় ।কবিতাটি প্রকাশের পরই ইংরেজরা তাকে জেলে পাঠিয়ে দিল ।  কারাগারে বসে নজরুল তার গান ‘শিকল পরা ছল ’ রচনা করেন  । এ সময় তার ‘অগ্নিবীণা ’কবিতার বইটি প্রকাশিত হয় । ১৯২৪ সালে কবি জেল থেকে মুক্তি পান । তিনি প্রমীলা সেনগুপ্ত কে বিয়ে করেন । বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই গান লিখতে শুরু করেন । কবির শ্রেষ্ঠ গানের বইয়ের নাম সঞ্জিতা । ১৯৩১ সালে কবি থিয়েটার  সিনেমায় যোগ দেন । পরে গ্রামীণফোন কোম্পানিতে চাকরি করেন । এখানে থেকেই গান লিখতে হত । নিজের গানের সুর দিতেন । ১৯২৯ সালে ১৫ ডিসেম্বর পত্রিকার উদ্যোগে কলকাতা  অ্যালর্বাট  হলে কবি কে জাতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় । অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন আজাদ প্রফুল্ল চন্দ রায় । প্রধান সভাপতি ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু ।এ সময় কবির জীবনে কয়েকটি দুঃখের ঘটনা ঘটে।  ১৯৩০ সালে প্রথম পুত্র আজাদ কালাম মারা যান । একই বছরে বসন্ত রোগে মারা যায় তার দ্বিতীয় পুত্র বুলবুল । কবি নজরুল সব মানুষের জন্য লিখতেন । তার কাছে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সমান । তিনি শিশুদের জন্য কবিতা গান ও ছড়া লিখতেন ।১৯৪২ সালে জুলাই মাসে কবির ‘পিক্স’ নামে এক ধরনের রোগ হয় । এ রোগের কারণে তিনি কথা বলার শক্তি ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন । কবিকে বিদেশে পাঠানো হয় ।  অনেক চিকিৎসা চলল কিন্তু ভাল হল না। ১৯৬০ সালে ভারত সরকার ‘পদ্মভূষ ’ উপাধি দেন । বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে অসুস্থ কবি কে ঢাকায় নিয়ে আসেন । তাকে জাতীয় কবি সম্মান দেওয়া হয় । ১৯৭৬ সালে কবিকে একুশে পদক প্রদান করা হয় । কবিতার জীবনে অনেক গল্প কবিতা লিখেছেন । তার কাব্যগ্রন্থ সংখ্যা ২২ টি  , কিশোর কাব্য  ২ টি ,   উপন্যাস ৩ টি , তাছাড়া তিনি কয়েক হাজার গান রচনা করেছেন ।১৯৭৬ সালে ২৯শে আগস্ট (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ রবিবার) সকাল ১০ টায় ঢাকার পি.জি হাসপাতালে প্রিয় কবি মারা যান । এ সময় কবির বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর । নজরুল তার একটি  কবিতায় লিখেছেন মসজিদের ওই পাশে আমার কবর দিও ভাই । তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয়েছে ।বাংলাদেশ সাহিত্যে কবি কাজী নজরুল ইসলাম অমর হয়ে আছেন ।তার কবিতা চিরকালের চিরস্মরণীয়।

Post a Comment

0 Comments