মিনা আর রাজু ভাই রাজু তাদের গ্রামের স্কুলে পড়ালেখা করে । ওদের টিয়া পাখি মিঠু সব সময় ওদের সাথে থাকে ।মিনা স্কুল ভালোবাসে । প্রতিদিন স্কুলে সে কিছু শিখে । তাদের খুব সুন্দর করে কথা বলেন । ক্লাসগুলো মজার হয় সবাই খুব আনন্দ পায় । একদিন তাদের শিক্ষক আপা বললেন আমি কিছুদিন থাকব না । তোমরা সবাই ভালো থেকো ।পরেরদিন মিনা রাজু স্কুলে যাচ্ছিল । স্কুলের পাশেই একটি আমগাছ ডালে একটি পাখি বাসা । ওরা গাছে উঠে দেখে বাসায় কয়েকটা ডিম । ডিম গুলো ভালো লাগছিল । ওগুলো দেখতে গিয়ে তারা ইস্কুলে কথা ভুলে গেল । ক্লাসের ঘন্টা শুনে গাছ থেকে নেমে ওরা দৌড়ে স্কুলে গেল । ক্লাসে গিয়ে দেখে নতুন আপা পড়াচ্ছেন । দেরি করে আশায় আপা রেগে গেলেন । খুব করে দুজনকে বকা দিলেন । দুজনের মন খুব খারাপ । এমন করে তারা কোনদিন বকা খায় নি। আপা ভীষণ রাগী । ক্লাসে তিনি একাই কথা বলতে পছন্দ করেন । আগের আপার মতো সবার সাথে কথা বলেন না । নতুন শিক্ষককে সবাই ভয় পায় ।ক্লাস গুলো আরো আগের মত মজা হয় না । সবারই খুব মন খারাপ একদিন আপা লেবার বিষয়ে পড়াছিলেন । বিষয়টি ছেলেমেয়েদের কাছে নতুন ।কেউই বলতে পারছিল না কারন এটি তাদের পড়ার বইয়ে নেই । এ ব্যাপারে প্রশ্ন করায় আপা খুব রাগ হলো । তিনি মিনাকে ক্লাস থেকে বের করে দিলেন।সে দিন মিনা বাড়ি এসে কাঁদতে লাগল । বলল আমি আর স্কুলে যাব না । মিঠু রকম মন খারাপ । মিঠু বললো আমি আর স্কুলে যাব না । একদিন তারা ‘বু ’মিনা দের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে । তারা বুকে পেয়ে মিনা স্কুলের সব কথা খুলে বলল । তারা বলল চিন্তা করোনা । আমি তোমাকে লিভার কি সেটা বুঝিয়ে দেব ।
মিনা কে সাথে নিয়ে তারা চাষী ভাই এর খামার বাড়িতে গেল । চাষী ভাই বাঁশের খুঁটি দিয়ে মরা গাছের কুঁড়ি তুলছিলেন । উনি গুরির নিচে বাঁশের এক মাথা ঢোকালেন । তারপর বাসটি নিচে রাখলেন এক টুকরা শক্ত কাঠ । তারা বু’র আর ভাই বাঁশের খুঁটির উপর থেকে নিচে চাপ দিলেন ।মীনা আর মিঠু তাকে সাহায্য করল । মিনার শিখল , এটা হল লিভার । যখনেই গাছের গুড়িতে নড়তে শুরু করল । মিনা বুঝতে পারল লিভার কেমন করে কাজ করে ।মিনা খুশিতে তারা বুকে জড়িয়ে ধরলো । বললো ‘ধন্যবাদ তারা‘ বু’ তোমার জন্য জানতে পারলাম লিভার কাকে বলে । স্কুলের ক্লাস গুলো আরো ভাল লাগছিল না । সবার মত মিঠুও ভাবতে লাগল আগের আপা কবে ফিরে আসবে । সেদিন ক্লাসে ঘটল এর দারুন ঘটনা । রাজু ক্লাসে একটি কাঠের গাড়ি নিয়ে এসেছিল । শিক্ষক খেলনাটা রাজুর হাত থেকে নিয়ে তার আলমারিতে রাখতে গেলেন । ছেলেমেয়েরা চুপচাপ বসে দেখছিল । তারা জানে এই আলমারিটি দরজা আস্তে করে খুলতে হয় । কিন্তু বকুনি খাওয়ার ভয়ে সাহস করে তারা কটা কথাটা বলতে পারছিল না । আলমারিতা দরজা ধরে দিলেন ভীষণ জোরে টান । আলমারিটা এসে পড়ল তার পায়ের উপর । আলমারি নিচে পড়ে আপা ব্যাথায় চিৎকার করে । উঠলেন কিন্তু মেয়েরা আলমারিটা টেনে সরাতে পারছিল না ।মিনা আর মিঠুর মাথায় হঠাৎ লিভার দিয়ে কাজ করার বুদ্ধি এলো । মিনা দৌড়ে ক্লাসের বাইরে গিয়ে একটি বাঁশের খুঁটি নিয়ে আসলো । মিনা ও রাজু আরো কয়েকজনকে নিয়ে বাঁশের খুঁটির ও একটা চেয়ার দিয়ে লিভার বানাল ।তারপর আলমারিটা কে উঁচু করে তুল দরল । অন্য ছেলে মেয়েরা তাকে আলমারি থেকে টেনে সাবধানে টেনে বের করলো । হঠাৎ মিঠুর দরজার দিকে তাকিয়ে বলল , ‘আপা এসেছেন ’ । সবাই দেখলো তাদের আগের আপা হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন । তিনি বললেন কি করছো সোনামনিরা । একটি ছোট ছেলে বলল আমরা লিভার বিষয় শিখছি । নতুন আপা ভাবলেন এতদিন তিনি যে ব্যবহার করেছেন তা ঠিক হয়নি । তিনি খুব লজ্জা পেলেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন ।আগের আপাকে পেয়ে ছেলেমেয়েরা আনন্দে মেতে উঠল । সবাই পড়ালেখায় মনোযোগী হল । মিঠু খুশিতে ডানা ঝাপটাতে লাগলো মিঠুকে জড়িয়ে ধরে মিনা বলল ‘ আমি ইস্কুল ভালবাসি ‘ । সাথে সাথে মিঠু ও বলল ‘ আমি স্কুল ভালোবাসি ‘।
0 Comments